| প্রকাশ: ০১:০৮:১৯ PM, সোমবার, মার্চ ২৫, ২০১৯ | |
দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে ভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে বেদে সম্প্রদায়। জীবনের তাগিদে ধীরে ধীরে তাদের যাযাবর জীবন থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক ও স্থায়ী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে। তাদের মত সমাজের মূল স্রোতে মিশছে তাদের সন্তানরাও।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মত মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারছে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে। ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কমে যাওয়া, বহুবিবাহ হ্রাস পাওয়া ও মাতৃতান্ত্রিক সমাজ থেকে পিতৃতান্ত্রিকে রূপান্তর হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের অর্থনীতি বিভাগের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সোমবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলায়, সম্প্রতি ঢাকার অদূরে সাভারে একটি বেদে পল্লীতে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের একটি দল বেদে পল্লী পরিদর্শন করেন।
সেখানে তারা দেখতে পান, বেদে পল্লীর নারীরা এখন নকশী কাঁথা সেলাই করে আর পুরুষরা জুতার কারখানাসহ অন্যান্য কাজে যুক্ত হচ্ছে। পেশা পরিবর্তনের ফলে তাদের আয় বাড়ার পাশাপাশি জীবনমানেরর উন্নয়ন হয়েছে। তাদের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, একটি অংশ উচ্চশিক্ষিতও হচ্ছে। অবশ্য এখনো এসব সম্প্রদায়ের লোকজন চাকরি কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কাজে মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব কারণে বেদে সম্প্রদায় নিজেদের পরিচয় দিতে চায় না। যাদের জীবনমান উন্নয়ন হয়েছে, কিংবা ডাক্তার, প্রকৌশলী ও শিক্ষকতা পেশায় যাওয়া বেদে সম্প্রদায়ের অগ্রসরমান শ্রেণী এখন আর নিজদের অতীত পরিচয় দিতে চাইছেন না।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি বলেন, গবেষণাপ্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে জীবনমান উন্নয়নের জন্য বেদে পল্লীতে বসবাসরত মানুষের মানবিক মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে সেখানে কার্যক্রম বেসরকারি অথচ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে বাড়ানো দরকার। দ্রুত সমৃদ্ধি কার্যক্রম পিকেএসএফ চালু করে সরকারের যে সদিচ্ছা, যাতে আয় প্রবাহ বৃদ্ধি পায় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন দরকার। এতে অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে তারা বেদে সম্প্রদায়ের অতীত ও বর্তমান জীবনাচরণের পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
এছাড়া পরিদর্শনকালে সাভারের ভাকুর্তা গ্রামে সোশ্যার আপলিফটমেন্ট সোসাইটি’র (সাস) উদ্যোগে ক্ষুদ্র উদ্যোগ কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন। সেখানে অ্যালোভেরা, লেটুস উৎপাদন পদ্ধতি ছাড়াও বোতল/ক্যান উৎপাদন, ভাকুর্তায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ইমিটেশন জুয়েলারি তৈরি প্রক্রিয়া এবং ডেইরি ক্লাস্টার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন। বিশেষত অ্যালোভেরার বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও তা বিপণনের ক্ষেত্রে দারুণ সম্ভাবনা দেখেছেন পরিদর্শকদল।
![]() সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected] |