| প্রকাশ: ০৬:৪৬:১০ AM, বুধবার, জানুয়ারী ২২, ২০২০ | |
মাহফিল অর্থ মিলন মেলা, মিলনায়তন; আর ওয়াজ অর্থ উপদেশ, নসিহত, বক্তব্য। ধর্মপ্রাণ মানুষ এক জায়গায় জমায়েত হয়ে ধর্মীয় বক্তাদের কাছ থেকে যে উপদেশ ও বক্তব্য শ্রবণ করেন প্রচলিত অর্থে তাকেই ওয়াজ মাহফিল বলা হয়। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম, মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান, ইসলামের বাণী প্রচার, সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে জানার ও দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের বিধান প্রয়োগের জন্য জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে।
ওয়াজ মাহফিলের উদ্দেশ্য ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষকে ইসলামি আদর্শে জীবন পরিচালনার জন্য উদ্বুদ্ধ করা; কিন্তু আজকাল আলেম-ওলামাদের মধ্যে একে অপরের সমালোচনা ও বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, দ্বন্দ্বটা শুধু কোরআন-হাদিসের বাণী নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা নিয়ে নয়, দুনিয়াবি প্রয়োজনের কারণেও একজন আরেকজনের বিরোধিতা করছেন, না হয় কট্টর সমালোচনা না করে এবং কোনো ফতোয়া না দিয়ে ভুলকারীদের ভুল সুন্দরভাবে ধরিয়ে দেওয়া হতো।
সারা দেশের ওয়াজ মাহফিল সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৬টি সুপারিশ করা হয়েছে, যা প্রত্যেক বক্তার মেনে নিয়ে ওয়াজ করা আবশ্যক। ৬টি সুপারিশ হলোÑ ১. হুজুররা যেন বাস্তবধর্মী ও ইসলামের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন, সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের ব্যবস্থা করা, এক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি পুলিশের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। ২. যারা ওয়াজের নামে হাস্যকর ও বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করার চেষ্টা চালান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রো-অ্যাকটিভ উদ্বুদ্ধকরণ। ৩. অনেক আলেমের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির মতো উচ্চশিক্ষা ব্যতীত যারা ওয়াজ করেন, তারাই জঙ্গিবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাই মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষিত ওয়াজকারীদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা। ৪. অনেকেই আছেন, যারা হেলিকাপ্টারে ওয়াজ মাহফিলে যোগ দেন এবং ঘণ্টা চুক্তিতে বক্তব্য দিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। তারা নিয়মিত ও সঠিকভাবে আয়কর প্রদান করেন কি-না, তা নজরদারির জন্য আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা। ৫. ওয়াজি হুজুরদের বক্তব্য স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং উস্কানিমূলক ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বক্তব্য দিলে তাদের সতর্ক করা। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাদের ওয়াজ করার অনুমতি না দেওয়া। ৬. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় আনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৬টি সুপারিশ মেনে চলা ছাড়াও আলেম-ওলামারা নিজেদের মধ্যে আদর্শিক কিছু দ্বন্দ্বের কারণে কখনোই ঐক্যবদ্ধ হন না। হক-বাতিলের আলোচনায় মেতে থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটান, সমালোচনায় মেতে ওঠেন। কোনো আলেম ভুল বক্তব্য প্রদান করলে তা সুন্দরভাবে শুধরে না দিয়ে তাকে বর্জনের আহ্বান জানান, বিভিন্ন ফতোয়া প্রদান করেন। আলেম-ওলামাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মুসলিমরা আজ বিভ্রান্ত।
ওয়াজ মাহফিলগুলোতে দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের প্রয়োগ ঘটানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে মাহফিলগুলো হয়ে উঠছে এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার স্থান। আলেম-ওলামাদের উক্তরূপ দ্বন্দ্বের কারণে সুযোগ নিচ্ছে ধর্মবিরোধী, যারা ধর্মকে সম্মান করা তো দূরের কথা সুযোগ পেলেই ধর্মপ্রাণ মানুষ ও ধর্ম নিয়ে কটূক্তিতে মেতে ওঠে। শুধু ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তিরাই নয়, আলেম-ওলামাদের এহেন বিরোধপূর্ণ মনোভাবের কারণে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যেও আজ বিভক্তি দেখা যাচ্ছে, কারা সঠিক বলছে, কোনটা সঠিক, এ নিয়ে দ্বিধা তৈরি হচ্ছে।
কাজেই ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান দেশব্যাপী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিতে, সর্বোপরি মুসলিম ঐক্য বজায় রেখে শান্তির ধর্ম ইসলামের বাণী দেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব পরিহার করার কোনো বিকল্প নেই।
![]() সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected] |