| প্রকাশ: ০৮:০১:০০ AM, শুক্রবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২০ | |
বিবেক-বুদ্ধি আল্লাহ তায়ালার মহান দান। ভালো-মন্দের পার্থক্য নিরূপণ করার মূলশক্তি। ন্যায়-অন্যায়ের ভিন্নতা অনুধাবন করে সৎকাজে মনোনিবেশ করা ও অসৎ অপরাধ থেকে দূরে থাকাই বিবেক-বুদ্ধির প্রধান দাবি। অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস ও দখল একটি ভয়াবহ অপরাধ। অপরের সন্তুষ্টি ব্যতীত তার সামান্য সম্পদও ধোঁকা, প্রতারণা, মিথ্যা বা জোরপূর্বক ভোগদখল জঘন্য পর্যায়ের গোনাহ ও দণ্ডনীয় কাজ। জেনে-বুঝে অন্যায় করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ংকর। অবৈধভাবে ভূমি দখল বর্তমান সময়ের একটি ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত বিষয়। মানুষ একে অন্যের জমি অন্যায়ভাবে দখলের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। হালাল-হারামের প্রশ্ন উপেক্ষা করে কিছু অসৎ ও ঘৃণিত মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তি এসব অপকর্ম করে সমাজকে দূষিত করে চলেছে। অথচ পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অন্যের জমি দখল ও অবৈধ মালিকানার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। বিবৃত হয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তির কথা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে পারস্পরিক সন্তুষ্টিক্রমে কোনো ব্যবসায় করা হলে তা জায়েজ।’ (সূরা নিসা : ২৯)। ওই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ‘বাতেল’ শব্দ উল্লেখ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদসহ (রা.) অন্য সাহাবিদের (রা.) মতে শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ এবং নাজায়েজ সব পন্থাকেই ‘বাতেল বা অন্যায় পন্থা’ বলা হয়। যেমন চুরি, ডাকাতি, অবৈধভাবে ভূমি দখল, পণ্য মজুদকরণ, ঘুষ, সুদ ইত্যাদি সব ধরনের অন্যায় পন্থাই এ শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
আবু হুমায়দ আস সায়িদি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির অনুমতি ব্যতীত তার একটি লাঠিও অন্য কারও জন্য জায়েজ নয়। এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তায়ালা একজন মুসলমানের সম্পদ অপর মুসলমানের জন্য অন্যায়ভাবে গ্রহণ করাকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।’ (শুআবুল ইমান : ৫১০৬)।
সাইদ ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারও এক বিঘত পরিমাণ জমিন জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে দখল করবে, কেয়ামতের দিন সাত স্তরবিশিষ্ট জমিন থেকে ওই পরিমাণ জমিন আল্লাহ তায়ালা তার গলায় বেড়িরূপে ঝুলিয়ে দেবেন।’ (বোখারি : ৩১৯৮; মুসলিম : ১৬১০)। সালিম (রহ.) তার বাবা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারও সামান্য কোনো জমিনও দখল করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সাত স্তবক জমিন পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হবে।’ (শরহুস সুন্নাহ : ২১৬৬)।
আমের ইবনে সাইদ (রহ.) নিজের বাবা থেকে বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারও এক বিঘত পরিমাণ জমিন জবরদস্তি করে অন্যায়ভাবে দখল করবে কেয়ামতের দিন সাত স্তরবিশিষ্ট জমিন থেকে ওই পরিমাণ জমিন তার গলায় শিকলরূপে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এবং আল্লাহ তায়ালা তার কোনো ইবাদত কবুল করবেন না।’ (মুজামুল আওসাত : ৫১৪৯)।
ইয়ালা ইবনে মুররা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অবৈধভাবে অন্যের জমি দখল করবে, তাকে আল্লাহ তায়ালা সাত স্তর পর্যন্ত নিচে খনন করতে বাধ্য করবেন। এরপর সব মানুষের বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার গলায় তা বেড়িরূপে পরিয়ে রাখা হবে।’ (মুসনাদ আহমদ : ১৭৫৭১)। আলী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জমিনের সীমানা নির্দেশক স্তম্ভ চুরি করে তার ওপর আল্লাহ তায়ালা অভিসম্পাত বর্ষণ করেন।’ (মুসলিম : ১৯৭৮)।
সাধারণ একটি ফুলের মালা আমরা বেশি সময় গলায় ঝুলিয়ে রাখতে পারি না। কষ্ট হয়, অস্বস্তি বোধ করি, ঝামেলা মনে হয়। তাহলে সাত স্তর বিশিষ্ট বিশাল ও ভারী মাটি আমরা কীভাবে বহন করতে সক্ষম হবো! দুনিয়ার জীবনে সামান্য ভার বহনেই যেখানে আমরা অক্ষম, লাখো কোটি ওজনের মৃত্তিকা খণ্ড কীভাবে ঝুলিয়ে রাখব? সেটা কিরূপ ভয়ংকর ও মর্মঘাতী শাস্তি হবে তা কি আমরা কখনও ভেবেছি? চারদিকে দরিদ্র, বিধবা, সংখ্যালঘু, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের প্রচুর সংবাদ আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। কারও কাছ থেকে তার জমি, প্লট বা ভবন অন্যায়ভাবে দখল করে নিলে অবশ্যই সে ব্যক্তি কষ্টের সম্মুখীন হবেন। অন্যকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি খুবই ভীতিজনক। জুলুম, অপরাধে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালার অভিশাপ বর্ষণ এবং কোনো ইবাদত কবুল না হওয়ার কঠিন হুঁশিয়ারিও বর্ণিত হয়েছে। জীবনে কোনো ইবাদত না থাকলে আল্লাহ তায়ালার সামনে কোন পুঁজি নিয়ে উপস্থিত হবো আমরা?
![]() সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected] |