logo
প্রকাশ: ০৮:১৩:০৮ AM, বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২০
সমালোচনা পাত্তা না দেওয়া নবীদের আদর্শ
আরজু আহমাদ

শুয়াইব (আ.) ছিলেন অসাধারণ বাকপ্রতিভার অধিকারী। এজন্য তার উপাধি হচ্ছে, ‘খতিবুল আম্বিয়া’ অর্থাৎ নবীদের ভাষ্যকার। এরপরও মাদায়েনের অধিবাসীরা তার আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বলেছিল, ‘আপনি যা বলেন, আমরা তো তা বুঝিই না।’ (সূরা হুদ : ৯১)। সবচেয়ে সুন্দর করে বলতে পারা মানুষটির কথাকেও বুঝতে না পারার মিথ্যে অজুহাত তুলে তারা পরিহাস করত। মুসা (আ.) ছিলেন তারই জামাতা। যখন মিসরে মুসা (আ.) নবী হিসেবে প্রেরিত হলেন, খোদ তার ওপরও ব্যভিচারের অপবাদ আরোপের চেষ্টা করা হলো। পতিতালয় থেকে এক পতিতাকে অর্থের বিনিময়ে এনে জনসমাবেশে বলানো হলো, ‘মুসা প্রায়ই রাতে আমার কাছে আসে।’ 
মিসরের রাজালয়ে ইউসুফ (আ.) এর ওপর ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে দীর্ঘ কারাদ- দেওয়া হয়েছিল। ঈসা (আ.) এর ওপর অবৈধ সন্তানের কলঙ্ক আরোপ করার চেষ্টা হলো। মরিয়ম (আ.) এর মতো সাধ্বী নারীর ওপর এ অপবাদ লোকেরা প্রচার করল। খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বিদ্রুপ করে কখনও কবি, কখনও পাগল, কখনও গণক, কখনও জাদুকর বলা হতো। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) এর ওপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করল মোনাফেকরা। এমনকি কোরআন সাক্ষী দেওয়ার পরও আজও পৃথিবীতে তাদেরই উত্তরসূরি (শিয়ারা) বহুজন এ মিথ্যার প্রচার করে।
সূরা আল আনকাবুতে আল্লাহ নবীদের প্রতি এরকম বহু বিচিত্র পরীক্ষার বহু বর্ণনা দিয়েছেন। প্রায় সহস্র বছরের দাওয়াতি চেষ্টার পরও নূহ (আ.) কে তার কওমের স্বল্পকজন বাদে বাকি সব লোকই প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইবরাহিম (আ.) এর সঙ্গে তার সম্প্রদায় কেমন আচরণ করেছিল সে ভয়াবহতার বর্ণনাও কোরআন দিয়েছে। হুদ ও সালিহ (আ.) এর সঙ্গে তাদের স্বজাতির প্রত্যাখ্যান ও দুর্ব্যবহারের সাক্ষীও কোরআন দিচ্ছে।
আর আমরা তো নিতান্ত সাধারণ মানুষ। না সেই উত্তম চরিত্র, না সেই ধৈর্য, না সেই ত্যাগ আমাদের রয়েছে! ফলত আমাদের ওপরও যদি নেমে আসে কোনো অন্যায় আরোপÑ তাতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই। এটা অভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব কিছুই নয়। বরং আমরাও সেভাবেই সবরের পথেই হাঁটব। লোকেদের প্রত্যাখ্যান, মন্দবাক্যে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই। ইমাম শামিল (রহ.) বলতেন, ‘আমি ১০০টা কাজের মধ্যে ৯৯টি কাজও যদি ভালো করি। আর তাতে একটিও যদি ভুল হয়, আল্লাহর কসম লোকেরা শুধু সে ভুলটির কথাই বলবে।’
ফলত লোকে যা বলুক, যে যত গালি দিক, যত কলঙ্ক আরোপ করুক, যত নিন্দামন্দই করুক আমরা ন্যায়ের পথ থেকে সরব না, বিচলিত হব না। এমনকি উচিত তো এটাই যে, আমরা তাদের ব্যাপারেও কল্যাণ ও মঙ্গলের ভাবনা নিয়েই এগোব।
শোয়াইব (আ.) এর কওম তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার নামাজের নিন্দা করেছিল। তাকে অপমান করেছিল। নিজেদের অপকর্মের দরুনই তারা আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়েছিল। তবুও তাদের জন্য ব্যথিত হৃদয়ে কাঁদতে কাঁদতে শুয়াইব (আ.) এর চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
কারও আনুকূল্যের প্রয়োজন নেই, কারও অনুকম্পা কিংবা দয়ার মুখাপেক্ষী আমরা নই। আমাদের অন্তর হবে মানুষের কাছে বিনিময়ের প্রত্যাশা ব্যতীতই ভালোবাসায় পূর্ণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে সূরা আত-তওবায় বলেছেন, ‘এরপরও যদি তারা প্রত্যাখ্যান করে তবে জানিয়ে দিন, আমার জন্য তো আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সূরা তওবা : ১২৮)।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]