| প্রকাশ: ১১:৫১:৪২ PM, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২০ | |
আত্মহত্যার আগের দিন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখেছিলেন তার স্ত্রী, এমনটা দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। স্লাইড শোর মাধ্যমে পিবিআই দেখায়, ঘটনার (সালমান শাহের আত্মহত্যা) আগের দিন সন্ধ্যায় এফডিসির ডাবিং থিয়েটারে ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিং চলাকালে সালমানের স্ত্রী সামিরা উপস্থিত হন এবং সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখেন। ডাবিং থিয়েটারে সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে সামিরা রাগ করে সেখান থেকে বের হয়ে যান।
আসলে সেদিন সেখানে কী ঘটেছিল! সে বিষয়ে আজ বিকেলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার পরিচালক রেজা হাসমত।
পরিচালক বলেন, ‘সেদিন সালমান-শাবনূর মনিটরিং করছিল, ডায়লগগুলো পড়ছিল, তখন দরজা খোলা ছিল। সামিরা ও সালমানের বাবা আমার ডাবিং রুমে একসঙ্গে এসেছিলেন। এসেই সামিরা আমার রুমে ঢোকে। কিন্তু সেখানে আসার পর ও (সামিরা) দেখল, ওরা (সালমান-শাবনূর) মনিটরিং করছে। আমি ওদের বলছিলাম, এটা এভাবে না, ওভাবে। তখন সামিরা বুঝতে পারে, ভেতরে আপাতত ডাবিং হচ্ছে না। তখন ও ওই রুমটায় (ডাবিং রুম) ঢুকে পড়ে। আমার ওই রুমটায় তখন আবুল ছিল, আমার অ্যাসিস্টেন্ট, সাউন্ড অ্যাসিস্ট করার একটা ছেলে ছিল। ওখানে অনৈতিক কিছু করার মতো অবস্থা ছিল না। হ্যাঁ, কথা বলতে পারে, তবে অনৈতিক কিছু করার মতো অবস্থা ছিল না।’
প্রেম পিয়াসী সিনেমার পরিচালক আরও বলেন, ‘পিবিআই যে কথাটি বলছে, সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে সামিরা চলে গেছে, এমন কোনো অবস্থা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
রেজা হাসমত বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ সকালে (১৯৯৬) সালমান শুটিং করে। বিকেল বেলা ডাবিংয়ে ঢোকে। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সে আমার এখানেই ছিল। এই ছিল ঘটনা। তারপর বাসায় গিয়ে কী ঘটেছে, সেটা আমি বলতে পারব না।’
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের ডাবিং সেট সম্পর্কেও বিবরণ দেন পরিচালক রেজা হাসমত। তিনি জানান, সাধারণত ডাবিং রুমগুলোতে আর্টিস্ট ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারে না। তবে যদি কারও গেস্ট আসে তবে ডাবিং সেটের ডিরেক্টরের আসন থেকে উল্টোদিকে তাদের জন্য আলাদা জায়গা থাকে, যেখানে তারা এসে বসতে পারেন। সরাসরি তারা ডাবিং রুমে ঢুকতে পারেন না। ডাবিং চলা অবস্থায়ও কেউ তাদের রুমে ঢুকতে পারেন না। সেখানে একটি লাইট থাকে যেটা বন্ধ থাকলে বোঝা যায় ডাবিং চলছে। জ্বলে উঠলে বোঝা যায় ডাবিং বন্ধ রয়েছে। এ সময় আর্টিস্টরা স্ক্রিপ্টিং করেন। তখন কোনো গেস্ট চাইলে ওই রুমটিতে ঢুকতে পারেন।
সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন নাকি এটি হত্যাকাণ্ড, তার মা নীলা চৌধুরী মামলা করার পর কয়েকবার এর তদন্ত হয়। পিবিআইকে মামলার দায়িত্ব দিলে কর্মকর্তারা তদন্ত করতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার পরিচালক রেজা হাসমতের ডাবিং স্টুডিওতেও যান। এ বিষয়ে রেজা হাসমত বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির ১১ থেকে ১৪ তারিখের দিকে উনারা (তদন্ত কর্মকর্তারা) আমার এখানে এসেছিলেন। সরেজমিনে আমি তাদের দেখিয়েছি। এই হিসেবে উনারা সব কিছু রেকর্ড করে নিয়ে গেছেন। ভেতরে বসা অবস্থায় কী হয়েছে, ডিরেক্টর এ ব্যাপারে কিছু জানেন না-সেটা আমি তাদের (তদন্ত কর্মকর্তারা) বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’
রেজা হাসমত আরও বলেন, ‘আমি যখন ডাবিং থিয়েটারে রেকর্ড রুমে থাকি, ওরা থাকে মাইকের সামনে। তখন লাইট অফ থাকে। যখন ডাবিং চেক করি, সব সাইলেন্ট (নিরব) থাকে। তখন তো কথাবার্তা বলা যায় না। তারপরে আবার যখন মনিটর হয়, তখন দেয়ালের সঙ্গে সোফাসেট দেওয়া আছে, তারা সেখানে বসে কথা বলে, স্ক্রিপ্টগুলো থিংক করে। সেটা তো আমি পেছন থেকে দেখতে পাবো না। লোক থাকে। একদিকে অন্ধকার, অন্যদিকে দেয়াল ঘেঁষে সোফাসেট দেওয়া, তো দেখা যাবে না। ওই হিসেবে আমি তাদের (তদন্ত কর্মকর্তাদের) বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, এ ব্যাপারে আমার কোনো দৃষ্টিগোচর হয়নি বা আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না, দেখিনি।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডের নিজ বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পিবিআই আজ তাদের তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে বলা হয় আত্মহত্যাই করেছিলেন সালমান শাহ।
![]() সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected] |