| প্রকাশ: ০৭:২৬:০৫ PM, বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০ | |
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীতে অসময়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসের আতংকসহ বাড়িঘর সহায় সম্বল হারানোর আতংকেও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে ভাঙ্গন এলাকার ইতিমধ্যেই ২ শতাধিক বাড়িঘরসহ ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ভাঙ্গনে প্রায় ৪ শতাধিক বাড়িঘর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি চিকিৎসা কেন্দ্র, ২টি ঈদগাহ মাঠ, ৫০টি তাঁত কারখানা, ৪’শ বিঘা আবাদী জমি, ৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ১টি কবরস্থান, ১টি শ্মশান ঘাট, ১টি মন্দির ও বহু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গনকবলিত গ্রামগুলির মধ্যে রয়েছে, ব্রাহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ি, ভেকা, জালালপুর, চিলাপাড়া ও হাট পাচিল, ঘাটাবাড়ী, বাঐখোলা, কুঠিপাড়া, পাকুড়তলা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, করোনা ভাইরাসের আতংকের চেয়ে বাড়িঘর হারানোর আতংকে বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বাঁধ নির্মাণের দাবীতে গত ৪ বছর ধরে মিছিল মিটিং ও মানববন্ধন করে এখনও কোন কাজ হয়নি।স্থায়ী তীর সংরক্ষরণ বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকলে এসব গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ ভয়াবহ ভাঙন রোধে এখনই দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
তারা আরো বলেন, গত বছর রাজশাহী পাউবো’র উত্তর-প‚র্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, বগুড়া পওর সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক আব্দুল্লাহ এ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। তবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু না হওয়ায় ভাঙ্গন এলাকার মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে ত্রাণ সামগ্রীর জন্য তালিকা করা হচ্ছে। ভাঙ্গনে যারা বাড়িঘর হারিয়েছে তাদেরকে সরকারি জায়গায় স্থায়ী করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, অসময়ে যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কয়েকদিন ধরে এই পানি কমতে শুরু করেছে। এ কারণে শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তবে শাহজাদপুরের ভাঙ্গন রোধে প্রায় সাড়ে ৭’শ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মণগ্রাম হতে হাটপাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ, চর ড্রেজিং ও নদী শাসন রয়েছে। এ প্রস্তাবটি প্রি-একনেকে খসড়া আকারে অনুমোদনও হয়েছে। করোনার জন্য এ প্রকল্পটি একনেকে পাশ হতে বিলম্ব হয়েছে। এখন প্রকল্পটি পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে। তবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
![]() সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected] |