রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (রসিক) টেন্ডার ড্রপকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলরদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা হলে প্যানেল মেয়রের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ প্রর্দশন করেছে। এ ঘটনায় আগামী রোববারের মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে মেয়রকে আল্টিমেটাম দেন ওর্য়াড কাউন্সিলরা ।
সূত্রে জানা গেছে,রসিক বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য গত বৃহস্পতিবার ১৫টি গ্রুপের টেন্ডার দাখিলের তারিখ ছিল। এর মধ্যে ১ নম্বর গ্রুপে সিটি মেয়রের ভাই আনিস ও তার সহযোগীরা কন্ট্রোল করে। এ নিয়ে ১২ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর রবিউল আবেদীন রতনের সাথে তাদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কাউন্সিলর রতনের দাবী আনিসের লোকজন টেন্ডার দাখিলে বাঁধা প্রদান করায় তিনি এর প্রতিবাদ করেছেন। সে কারনে তারা আমাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত এবং অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে রসিকের কাউন্সিলররা প্যানেল মেয়র মাহমুদার রহমান টিটুর নেতৃত্বে বিক্ষুদ্ধ কাউন্সিলররা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ প্রর্দশন করেছে।
এ সময় কাউন্সিলরদের সমাবেশ থেকে সিটি মেয়রের ভাই আনিস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রোববার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসুচী ঘোষনার হুঁশিয়ারী দেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র মাহমুদার রহমান টিটু, ২০ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর মাহবুবার রহমান মঞ্জু, ৪ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর হারাধন রায়, ১৫ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর জাকারিয়া আলম শিবলু, নারী কাউন্সিলর ফেরদৌসী বেগম প্রমুখ।
কাউন্সিলররা অভিযোগ করে বলেন, সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রসিকে পারিবারিক ও দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। এর বেশীর ভাগ উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারী তিনি তার ভাই আনিস ও দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে জবরদস্তি মূলক ভাবে নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখেন। ফলে অন্য কেউ তেমন টেন্ডার ড্রোপ করতে পারে না। এ ছাড়া বহিরাগতরা সার্বক্ষনিকভাবে মেয়রের চারিদিকে ঘেরাওকরে থাকে। ফলে মেয়রের সাথে তাদের প্রয়োজনীয় কথা বলার বিঘœ ঘটে থাকে। বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা আরও বলেন, মেয়র যেমন জনগনের ভোটে নির্বাচিত, তেমনি কাউন্সিলররাও জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি। এভাবে নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধিকে লাঞ্ছিত করা হলে তা সহ্য করা হবে না। এ ঘটনায় আগামী রোববারের (৭ জুন) মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে মেয়রকে আল্টিমেটাম দেন তাঁরা।
এ ব্যাপারে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অভিযোগ অস্বিকার করে জানান, তার ভাইয়ের নাম জড়িয়ে তার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিছু কাউন্সিলর অনৈতিক দাবী পূরণ করতে না পারায় তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
