সিলেটে এবার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্ত্রী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় দক্ষিণ সুরমার নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফাতেমা বেগম (৬০) নামের ওই মহিলা। তিনি নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন খানের স্ত্রী।
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি নর্থ-ইস্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
তিনি জানান, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে শুক্রবার রাত পর্যন্ত তিনজন করোনা পজিটিভ চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া, করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন আরো ১৮ জন।
সিলেটে সরকারিভাবে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, বেসরকারিভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে নর্থ ইস্ট হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট-এর সহকারী পরিচালক ডা: আনিসুর রহমান জানান, শনিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৪১৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৭৮৩ জন, সুনামগঞ্জে ২৭০ জন, হবিগঞ্জে ২০৮ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৫২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় এ বিভাগে এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল সিলেট জেলায়ই মারা গেছেন ২৩ জন। এছাড়া, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ২ জন করে এবং মৌলভীবাজারে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: মঈন উদ্দিন।
সাবেক মেয়র কামরান শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি
করোনার পজিটিভ ধরা পড়ার পর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে শনিবার সকালে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আনা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) সুশান্ত মহাপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক এ মেয়রের শারীরিক চেক আপ করা হচ্ছে। এর বাইরে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একটি সূত্র জানায়, আজ সকাল এগারোটার দিকে বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বমি হচ্ছে আর জ্বর আছে। তাকে কেবিনে রেখে চেকআপ করা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা শনাক্ত হয়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানের ঘনিষ্ট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার জানান, পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন সাবেক এ মেয়র। এজন্য তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তিনি বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।
