আমরা নিজেদের বাসাবাড়ি তৈরি করতে গেলে সেটাতে প্রাকৃতিক আবহ তৈরির জন্য বিভিন্ন গাছগাছালি লাগাই। জান্নাতে যদি ঘর নির্মাণ চাই তাহলে সেটাকেও গাছগাছালি দিয়ে সুসজ্জিত করার আমল শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি (সা.)।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি গাছ লাগাচ্ছিলেন, এমন সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তিনি বলেন, ‘আবু হুরায়রা, কী লাগাচ্ছ?’ আমি বললাম, ‘আমার জন্য গাছ লাগাচ্ছি।’ তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম রোপণের কথা বলে দেব না?’ আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, অবশ্যই বলে দিন।’ তিনি বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বলো। ‘প্রত্যেকটির বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটি করে গাছ রোপণ করা হবে।’
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মেরাজের রাতে ইবরাহিম (আ.) এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘হে মুহাম্মদ, তুমি তোমার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিও এবং তাদের সুসংবাদ দিও যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র। পানি সুমিষ্ট। তার ভূমি সমতল। এবং তার বৃক্ষ হবে : সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ (তিরমিজি)।
* রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াল্লাহু আকবার বলবে, প্রত্যেকটির বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে একটি করে গাছ রোপণ করবেন।
* জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে, সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি তার জন্য জান্নাতে খেজুর বৃক্ষ রোপণ করা হবে।’ (তিরমিজি, ইবনে হিব্বান)।
* আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু মুসা আশয়ারী (রা.) কে বলেছেন, ‘আমি কি তোমাকে জান্নাতের সঞ্চিত ধনভাণ্ডার সম্পর্কে বলে দেব না?’ তিনি বললেন, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রাসুল’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়বে।’ (ইবনে হিব্বান)।
* আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি আরশের নিচে জান্নাতের সঞ্চিত ভাণ্ডারের কালেমা সম্পর্কে বলে দেব না? বলো, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ (সহিহুল জামে)।
