ন তু ন প্র কা শ না

জীবন ও কর্ম : ফাতিমা (রা.) 
লেখক : আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ
অনুবাদক : মাওলানা মঈনুদ্দীন তাওহীদ
সম্পাদক : মুহাম্মাদ আদম আলী
প্রকাশনী : মাকতাবাতুল ফুরকান
পৃষ্ঠা : ৩১২; হার্ড বাইন্ডিং; ৮০ গ্রাম অফসেট কালার
প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২০
মুদ্রিত মূল্য : ৫০০
যোগাযোগ নম্বর : ০১৭৩৩-২১১৪৯৯ 

ইসলামের আলোতে পৃথিবী আলোকিত হয়ে ওঠার যে ইতিহাস, রাসুল (সা.) এর আদর্শে পৃথিবী সভ্য হয়ে ওঠার যে ইতিহাস, কোরআনের জ্ঞানে পৃথিবী শিক্ষিত হয়ে ওঠার যে ইতিহাস, সেখানে লেখা আছে জান্নাতি নারীদের নেত্রী নবীকন্যা ফাতিমা (রা.) এর অবদান। লেখা আছে তার অপরিসীম ভূমিকার কথা, তার অকল্পনীয় ত্যাগ-সাধনার গল্প, তার অসীম বীরত্বের কাহিনী। তিনি এমন এক মহীয়সী নারী, যার সমতুল্য সৌভাগ্যের অধিকারী মানবী আর আগমনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি একজন মানুষ ছিলেন, কোনো ঐশ্বরিক অবতার ছিলেন না। নবীকন্যা হিসেবে তিনি ছিলেন মোমিনদের জন্য আদর্শ, এ উম্মতের জন্য এক অবিস্মরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
বলাবাহুল্য নবীনন্দিনীর জীবন তো পড়তেই হবে। জান্নাতের নেত্রীর সিরাত তো সব মোমিনের অবশ্য পাঠ্য। তবে একশ্রেণির মানুষ তার নামে নানা গল্প-গুজব ও মিথ্যা ইতিহাস বর্ণনা করেছে। এ থেকে উত্তরণ, নিজের আকিদা-বিশ্বাস সঠিক করা এবং ইসলামের শাশ্বত সত্য-সুন্দর ও শান্তিময় পথে জীবনকে পরিচালিত করার জন্য তার জীবনী পড়া আবশ্যক। 
লেখক বর্তমান আরব জাহানের খ্যাতিমান, প্রথিতযশা গবেষক আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিরিয়ার দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক পড়াশোনার পর ১৯৮০ সালে দামেশক ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োলজি ও ২০০৩ সালে বৈরুতের ইমাম আওজায়ি কলেজ থেকে ইসলামি অনুষদে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর দুবাইয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অধ্যাপনায় থাকার পর ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণ গ্রহণ করেন। এখন তিনি লেখালেখিসহ গবেষণামূলক কাজে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। ১৯৭৫ সাল থেকেই তিনি দামেশকের স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দারুল কলমের সম্পাদনা ও প্রকাশনা বিভাগে কাজ করে আসছেন।
একনজরে বইটিতে আছে ফাতিমা (রা.) এর জান্নাতের নেত্রী হওয়াসংক্রান্ত বর্ণনা আর লেখকের অবতরণিকা ও পরিশিষ্ট ছাড়াও সর্বমোট দশটি অধ্যায়।
প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে, ফাতিমার নাম, বংশ, উপনাম, উপাধি। পিতা-মাতা, স্বামী-সন্তান ও ভাই-বোনদের পরিচয়। তার নামকে ঘিরে রাফেজিদের বানানো উক্তি এবং সেগুলোর খণ্ডন। এ-অধ্যায়ে আরও আছে তার জন্ম ও বয়স নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ ও এর সহজ সমাধান!
দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে সায়্যিদা ফাতিমার শৈশব থেকে মদিনায় হিজরত পর্যন্ত ঘটনার সারসংক্ষেপ। জীবনের পাঁচটি বসন্ত না পেরুতেই তার চরিত্রে ফুটে ওঠা বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা ও অবিচলতা। ইসলামের দাওয়াতি পরিবেশে বেড়ে ওঠা, প্রতিকূল মুহূর্তেও হিজরত এবং হিজরতকালে এক বর্বর কাফেরের হিংস্রতার মুখোমুখি হওয়ার বিবরণ। ঐতিহাসিক বিশুদ্ধ তথ্যের আলোকে সব কিছু বিবৃত হয়েছে এ-অধ্যায়ে!
তৃতীয় অধ্যায়টি নবীকন্যার বিয়ে ও দাম্পত্য জীবনকেন্দ্রিক। ফাতিমা (রা.) কে কারা কারা বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেলেন, রাসুল (সা.) কেন তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আলীকে নিজের জামাতা হিসেবে গ্রহণ করলেন। বিয়ের মোহরানা ও উপঢৌকন কী ছিল। কেমন ছিল তার বিবাহের অনুষ্ঠানÑ এসব কিছু আলোচিত হয়েছে এখানে। ফাতিমার বিবাহে পুরো মদিনায় বয়ে চলে অনাবিল আনন্দের জোয়ার। নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সব সাহাবি হর্ষোৎফুল্লিত হয়ে মেতে ওঠে আনন্দ উদযাপনে। আলীর অভাবী সংসারের শুরু থেকে শেষ অবধি তারা ছিলেন তার সহযোগী ও অনুপ্রেরণাদাতা।
এ অধ্যায়ে আরও আছে, বিবাহের তারিখ ও বিবাহকালীন দুলহা-দুলহানের বয়স নিয়ে মিথ্যা ও ঐতিহাসিক মতভিন্নতার মূলোৎপাটন। নবীদুহিতা হয়েও সংযমের জিন্দেগি ও অভাবের সংসারে ফাতিমার দিনগুজরানের দুঃখ চিত্র। 
চতুর্থ অধ্যায় সজ্জিত হয়েছে তার চরিত্র, ইবাদতের নানাদিক নিয়ে।
পঞ্চম অধ্যায়ে বলা হয় ফাতিমার কাছে ওহি আসত। তাকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। ঐশী সে কিতাব নাকি মহাগ্রন্থ আল কোরআনের তিন গুণ, অথচ তাতে কোরআনের একটি হরফও নেই। এটা কি বাস্তব নাকি নিছক কল্পনা! নাকি উম্মতকে বিভ্রান্ত করতে সাজানো নাটক? এসব প্রশ্নের দালিলিক সমাধান দেওয়া হয়েছে এ অধ্যায়ে।
ষষ্ঠ অধ্যায়ের কোথাও বলা হয়েছে মারইয়াম বিনতে ইমরান জান্নাতি নারীদের সম্রাজ্ঞী। কোথাও বলা হয়েছে আসিয়া ও ফাতিমার কথা। আসলে কে হবেন রমণীদের নেত্রী! সেরা কে? আয়েশা, খাদিজা, মারইয়াম নাকি ফাতিমা? তা জানতে বাস্তবতা ও দলিল প্রমাণের নিরিখে সাজানো এ অধ্যায়ে আপনার চোখ রাখতে হবে।
সপ্তম অধ্যায়ে বিশ্ব মুসলিম যুগে যুগে প্রতিটি অধ্যায়ে তাদের সীমাহীন ভালোবাসা, অনুরাগ-অনুভূতি আর মর্যাদা ও সম্মানের অর্ঘ্য দিয়ে সিক্ত করেছে গোটা আহলে বাইতকে। এ ধারা নিরবধি বয়ে চলেছে যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সাহাবিদের পবিত্র সময় থেকে বর্তমান অবধি!
অষ্টম অধ্যায়ে আছে জীবনের ২৩টি বছর রাসুল (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম তার মাঝেই খুঁজে পেতেন নিজেদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। কেউ ক্ষণকালের জন্যও ভাবেননি নবীহীনভাবেও তাদের এ পৃথিবীতে থাকতে হবে। কিন্তু তিনি যখন সবাইকে বিদায় জানিয়ে পরম বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন, শ্রবণশক্তি আর দৃষ্টিশক্তি স্তব্ধ হয়ে ব্যথাতুর বিষণ্নতায় ছেয়ে গেল সাহাবিদের দুনিয়া। আর ফাতিমার ব্যথা তো ছিল অবর্ণনীয়। লেখক এ অধ্যায়ে রাসুলের তিরোধানের সেই যাতনাময় সময়টুকু সফলভাবে এঁকেছেন।
নবম অধ্যায়ে আছে পিতা-মাতার ইন্তেকালের পর সাধারণত সন্তানরাই তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। তাহলে ফাতিমার তো উত্তরাধিকার সূত্রে রাসুলের রেখে যাওয়া সম্পদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন তিনি পেলেন না! আবু বকর (রা.) এর কাছে মিরাস চাইতে গেলে সেদিন তিনি ফাতিমার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিলেন? 
শ্রুত ইতিহাস ও রাফেজিদের বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি, তিনি সেদিন ফাতিমাকে তার পিতার সম্পদ দেননি। তাকে বঞ্চিত করেছেন। এর জের ধরে ফাতিমা (রা.) মনঃক্ষুণ্ন হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আর আবু বকরের সঙ্গে কথা বলেননি। লেখক এ অধ্যায়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মূলত ঘটনাটি এমন নয়। বরং সম্পূর্ণ এর বিপরীত। ফাতিমার মতো একজন মহামানবী থেকে সামান্য সম্পদ নিয়ে এমন আচরণ প্রকৃত ইতিহাস পরিপন্থি।
দশম অধ্যায়ে আছে শেষ বিদায়। মৃত্যুকালে বয়স, মৃত্যুসন। তার জানাজা কে পড়িয়েছিলেন। বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনার মাধ্যমে তো প্রমাণিত হয়, আবু বকরই তার জানাজার ইমাম ছিলেন। তাহলে রাফেজি ও বোখারি মুসলিমের রেওয়ায়েতগুলোর হকিকত কী? তিনি কি মানবী ছিলেন, নাকি জগৎ সৃষ্টির বহু আগে খোদায়ি নূরে তৈরি কোনো অতিমানবী! সব সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন লেখক। 
প্রিয়নবীর (সা.) নয়নের মণির জীবনীগ্রন্থটি সবাইকে পড়তে বলব। মা-বোনদের জন্য এর চেয়ে উত্তম উপহার আর কী হতে পারে। বইটির পাতায় পাতায় ঈমান আর আবেগের ছোঁয়া। একটু পর পর চোখ ভিজে উঠবে আপনার। প্রাঞ্জল ঝরঝরে অনুবাদে এতিম নবীর এতিম কন্যার জীবনের শেষ মুহূর্তের আখ্যানগুলো পড়ে বুক ফেটে কান্না আসবে। অনুজপ্রতীম অনুবাদকের জন্য শুভকামনা রইল। মুদ্রণপ্রমাদ বাদ দিলে এটি এক অসাধারণ বই। এর ব্যাপক প্রসার কামনা করি। 

 


বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতের সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম
বিস্তারিত
জুমাতুল বিদা আজ
আজ মাহে রমজানুল মোবারকের ২৮ তারিখ। আজ জুমাবার। এটাই এ
বিস্তারিত
চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে
চলছে পবিত্র রমজান মাস। সিয়াম-সাধনার এ মাস জুড়েই রয়েছে রহমত,
বিস্তারিত
কাল পবিত্র লাইলাতুল কদর
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র 'লাইলাতুল কদর'। মহিমান্বিত এ
বিস্তারিত
১০ বার কোরআন খতমের সওয়াব
একে একে শেষ হয়ে যাচ্ছে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের দিনগুলো।
বিস্তারিত
মাগফিরাতের ১০দিন শুরু এবং আমাদের
আজ থেকেই শুরু হবে মাগফিরাতের ১০ দিন। দুনিয়ার সকল গোনাহগার
বিস্তারিত