মায়ের মৃত্যু শোক সামলে ওঠার আগেই চলে গেলেন জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান। গত শনিবার ইরফানের মা সাইদা বেগম ইন্তেকাল করেন। করোনা পরিস্থিতিতে পুরো ভারতজুড়ে লকডাউনের কারণে মায়ের শেষকৃত্যেও যোগ দিতে পারেননি এ অভিনেতা।
রাজস্থানের টঙ্ক নবাব পরিবারের বংশধর ছিলেন ইরফানের মা। অনেক দিন থেকেই বার্ধক্যজনিত কারণে নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার সকালে ভারতের জয়পুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাইদা বেগম। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
এদিকে মায়ের মৃত্যুর তিন দিন পরই গতকাল মঙ্গলবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ইরফান। আজ বুধবার দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা যান ভারতের এই শক্তিমান অভিনেতা।
২০১৮ সালে নিউরোঅ্যান্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে ইরফানের। এরপর এক বছর বিদেশে থেকে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে মুক্তি পায় ইরফানের ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমা। এই সিনেমাটি নিয়ে বেশ আবেগআপ্লুত ছিলেন ইরফান। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে এর প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। মুক্তি পেলেও করোনার কবলে কয়েক দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় এই ছবির প্রদর্শন।
বাংলাদেশের ‘ডুব’খ্যাত ভারতীয় এই অভিনেতা ‘সালাম বোম্বে’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। ছবিটি অস্কারেও মনোনয়ন পেয়েছিল। এরপর তাকে দেখা গেছে ‘হাসিল’ ও ‘মকবুল’ ছবিতে। এতে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ইরফান খান। যার সুবাদে ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কারটিও তার ঘরে ওঠে।
এরপর একেক করে ভক্তদের তিনি উপহার দিয়েছেন ‘লাইফ ইন অ্যা মেট্রো’, ‘পান সিং তোমার’, ‘দ্য লাঞ্চ বক্স’, ‘হায়দার’, ‘গুন্ডে’, ‘তালভার’, ‘পিকু’ ও ‘হিন্দি মিডিয়াম’।
শুধু হিন্দি নয়, ইরফান খান অভিনয় করেছেন হলিউডের ছবিতেও। এ তালিকায় রয়েছে ‘দ্য ওয়ারিয়র’, ‘দ্য দার্জেলিং লিমিটেড’, ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’, ‘নিউ ইয়র্ক আই লাভ ইউ’, ‘দ্য আমেজিং স্পাইডার-ম্যান’, ‘লাইফ ইন অ্যা পাই’, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ ও ‘দ্য ইনফার্নো’।
