পিসিবি বোর্ড কর্মকর্তা থেকে সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা দর্শকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ঘরের মাঠে খেলা দেখা দর্শকদের অধিকার। নিজ দর্শকদের সামনে খেলার আলাদা উচ্ছ্বাস-বিশ্বাসের কথা বলেছেন তারা। অথচ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম যেন 'দর্শক শূন্য'। নিরাপত্তা চৌকি ডিঙিয়ে ওই 'জন অরণ্যে' প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৪১ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
অথচ পিচ রিপোর্ট অনুযায়ী, গাদ্দাফির উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। দুইশ' রানও নাকি নিরাপদ নয়। শুরুতে দুই টাইগার ওপেনারের ব্যাটিং দেখেও তেমনই মনে হয়েছিল। তামিমরা রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিলেন। কিন্তু উইকেট তুলে নেওয়ার মতো বোলিং ঠিক করতে পারছিলেন না শাহিন শাহ-হাসনাইনরা।
বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ নাঈম শুরুতে ৭১ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু তাদের ওই জুটি দৃষ্টি নন্দন ছিল না। দু্ই ওপেনার ১১ ওভার খেলে করেন ওই রান। দু'জনই যেন অ্যাংকরিং রোল পেলে করতে নামেন মাঠে। ঝুঁকি নিয়ে একজন খেলবেন অন্যদের অ্যাংকরিং করবেন তেমন কোন চেষ্টাও লক্ষ্য করা যায়নি। দেশসেরা ওপেনার তামিম বিপিএল স্টাইলে ব্যাটিং করে ৩৪ বলে ৩৯ রান করেন।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর চার ম্যাচেই রান পেলেন নাঈম শেখ। কিন্তু সেট হয়ে খেলতে পছন্দ করা এই ব্যাটসম্যান ৪১ বলে ৪৩ করে আউট হন। দুটি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন তিনি। কিন্তু দলের চাহিদা পূরণ করতে পারেননি। এরপর লিটন দাসও ক্রিজে এসে ধুঁকতে শুরু করেন। তামিমের মতো রান আউটে কাটা পড়ার আগে ১৩ বলে করেন ১২ রান।
শুরুর ব্যাটসম্যানদের কচ্ছপ গতির রানের চাকায় গতি আনতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ-সৌম্যরা। চারে নেমে দলীয় অধিনায়ক ১৪ বলে হার না মানা ১৯ রান করেন। আফিফ-সৌম্য ফিরে যান যথাক্রমে ৯ ও ৭ রান করে। লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও তাই বাংলাদেশ বড় রান তুলতে পারেনি স্কোর বোর্ডে।বোলারদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব।
পাকিস্তানের স্পিনার ও পেসাররা দারুণ বোলিং করেন। অভিষেক হওয়া হ্যারিস রউফ ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। শাদাব খান ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় ১ উইকেট তুলে নেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪ ওভারে দেন মাত্র ২৩ রান। তুলে নেন একটি উইকেট। খরুচে বোলিং করেন কেবল মোহাম্মদ হাসনাইন। তিনি ৪ ওভারে ৩৬ রান দেন। শুরুতে বল হাতে নেওয়া ইমাদ ওয়াসিম ৩ ওভারে ১৫ রান দেন।
