পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে হতাশায় শুরু করেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের এই অভিজাত সংস্করণ এলেই যেন তামিমরা আরও নুইয়ে পড়েন। মাঝেমধ্যে সাফল্য আসলেও বেশিরভাগ সময়ই না পাওয়ার গল্প। দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে লজ্জার হার, ভারতের মাটিতে ভরাডুবির পর পাকিস্তানের মাটিতেও টাইগারদের একই রূপ।
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম দুই ওভারেই বাংলাদেশ হারায় দুই ওপেনারকে। ক্রিজে থিতু হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল হক (৩০)। আরেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তও (৪৪) সম্ভাবনা দেখিয়ে ফেরেন সাজঘরে।
দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম-মুমিনুল দলের হাল ধরতে ব্যর্থ। তবে মাত্র দুই টেস্ট খেলা নাজমুল হোসাইন শান্ত খেলছেন ধীরেসুস্থে। তার বিচক্ষণ ব্যাটিংয়ে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে টাইগাররা। দলকে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠালেও সুবিধাজঙ্ক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেননি।
মুমিনুলের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটির পর এখন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩৩ রানের জুটে গড়ে শান্ত ফেরেন ৪৪ রান করেই। লাঞ্চ বিরতিতে থেকে ফিরেই প্রথম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন শান্ত। রিয়াদ ১৭ ও মিথুন ০ অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান।
এর আগে মাত্র দুই টেস্ট খেলা শান্তর এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮। আজ ৪৪ রান করে ছাড়িয়ে গেলেন নিজেক।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার ফিরে গেছেন সাজঘরে। প্রথম ওভারে আউট হয়েছেন সাইফ হাসান। প্রত্যাশা দূরে থাক, রানের খাতাই খুলতে পারেননি ২১ বছর বয়সী সাইফ। দুই বলে ০ রান করেন তিনি। আর পরের ওভারেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে কাঁটা পড়েছেন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল।
বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার ও এক স্পিনার নিয়ে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। কুড়ি বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এখনো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। তাদের বিপক্ষে টাইগারদের সর্বোচ্চ সাফল্য একটি ম্যাচে ড্র। ২০১৫ সালের এপ্রিলে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম বারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচে ড্র করার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ।
এ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে মোট ১০টি ম্যাচ খেলে অর্জন ওই ড্র-ই। এর মধ্যে পাকিস্তানের মাটিতে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
