কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত দানবাকার প্রাণী ডাইনোসরকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। এ নিয়ে কত চিত্র প্রদর্শনী, কত আলোচনা, কত গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে। নির্মিত হয়েছে ‘জুরাসিক পার্ক’ নামে চলচ্চিত্রও।
কল্পকাহিনীনির্ভর বিশেষ ওই চলচ্চিত্রে দেখা যায়, মশার শরীর থেকে ডিএনএ নিয়ে পুনর্জন্ম দেওয়া হয় দৈত্যকায় ডাইনোসরকে। মশার সেই ডিএনএ সংরক্ষিত হয়ে ছিল বিশেষ এক ধরনের রেজিনের মধ্যে। সিনেমায় নয়, এবার বাস্তবে হদিশ মিলতে পারে ডাইনোসরের ডিএনএ’র। আর সেটা মিলবে অ্যাম্বার থেকে।
অ্যাম্বার এমনই এক রেজিন (গাছের আঠালো রসসদৃশ), যা প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অলংকার নির্মাণে। চীন থেকে গ্রিস- বিশ্বের বহু দেশই দীর্ঘদিন এ অ্যাম্বার ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে। পৃথিবীতে পদার্থটির সৃষ্টিও প্রায় ১০ কোটি বছর আগে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, অ্যাম্বারের রয়েছে একটি বিশেষ গুণ, যা তাকে কঠিন কেলাসে পরিণত করার পর তার ভেতরের বস্তুকে লক্ষ-কোটি বছরেও নষ্ট হতে দেয় না। ফলে তার ভেতর থেকে ডাইনোসরের অস্তিত্ব পাওয়া অস্বাভাবিক কোথায়!
জানা যায়, মিয়ানমারের কাচিনে এক সময় ডাইনোসরের বিচরণ ছিল; সে চিহ্ন পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে সেখানে রয়েছে বিশ্বের একমাত্র বাণিজ্যিক অ্যাম্বার উত্তোলনের খনি। এখানকার অ্যাম্বার হলো ‘ক্রিটেশাস’ যুগের, অর্থাৎ যে যুগের শেষদিকে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয় ডাইনোসর।
গবেষকরা বলছেন, কাচিনের অ্যাম্বারের অনেক পাথরেই মিলেছে ডাইনোসরের দেহাংশ। বেজিংয়ের চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেসের গবেষক লিডা জিং জানান, তিনি একটি ডাইনোসরের লেজের অংশ পেয়েছেন। এ কারণে এসব অ্যাম্বারের কদরও বাড়ছে। এছাড়া অ্যাম্বারের ভেতরে মৃত পিঁপড়া বা মশা পাওয়া গেছে, যা কয়েক কোটি বছরের পুরানো। সূত্র : এএফপি, এবেলা
