'এ তো আমার জীবনের কাহিনী, আপনি জানলেন কী করে?'
'আপনার গল্পের ‘বড় আপার’ মতো আমার বড় আপার জীবনটাও এমন।' 'জানেন, মৃন্ময়ী যেন আমারই প্রতিচ্ছবি! আমার ভালবাসাও আমাকে ছেড়ে গিয়েছে এমন করেই।' 'অহনার মতো এক সময় আমিও ভুল করেছিলাম মিথ্যে অহংকারে।'... এমনই অনেক পাঠক প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ হচ্ছে লেখিকা সালমা সুলতানার গল্পগ্রন্থ 'দহন'।
এবারের একুশে বইমেলায় লেখিকা সালমা সুলতানার নতুন গল্পগ্রন্থ এটি। মোট ১২টি গল্প নিয়ে লেখক সাজিয়েছেন তার গল্পগ্রন্থ 'দহন'। গত বছরও একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল লেখিকা সালমা সুলতানার কবিতাগ্রন্থ “শিশিরের শব্দে তোমায় খুঁজি”। এ গ্রন্থটিও তখন বেশ পাঠকনন্দিত হয়েছিল।

লেখিকার কথা
গল্প মানেই জীবন। জীবন মানেই আনন্দ, হাসি-কান্না, পাওয়া না-পাওয়ার হিসাবের ভারে ন্যূব্জ এক খেরোখাতা।
নিত্যদিনের ছন্দহীন, বেসুরো গানগুলো ছন্দে সাজিয়ে সুর দেয়াই তো জীবনের ধর্ম। বুকের গহীনে হাসির আড়ালে সঙ্গোপনে মুখ লুকায় অনেক নিঃসঙ্গ ব্যথা। জীবন এমনই। আবেগী জীবন-নদী বয়ে চলে নিরন্তর, আপন গতিতে...। সে নদী কখনো উত্তাল হয় ব্যথার ঢেউয়ে, কখনো প্রবহমান হয় সুখের মৃদু তরঙ্গে। সম্পর্কের বোঝাপড়া, টানাপড়েনের এক ছোট্ট খেরোখাতা এই ‘দহন’ গল্পগ্রন্থটি।
"আজ একাদশীর বানভাসি জোছনা। দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি দেখে মনে হয় যেন হীরের হাঁসুলি পরেছে জলকন্যা। নিভু নিভু সলতের আলোয় ঢেউয়ের তালে তালে চলছে জেলেদের নৌকাগুলো। প্রমত্তা পদ্মার বুক চিরে রাতের নৈঃশব্দ্যে লঞ্চটি এগিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে।
অফিসের ট্যুরে বরিশাল যাচ্ছি। কেবিনের বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। কী মনে করে একটু এগোলাম সামনের দিকটায়। চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কে দাঁড়িয়ে ওখানটায়! দাঁড়িয়ে আছে পুরো লঞ্চটিকে পেছনে ফেলে। গভীর মনোনিবেশে উন্মত্ত পদ্মার নিরন্তর বয়ে যাওয়া দেখছে আর বলছে ‘তুমিও কেড়ে নিতে জানো, সবকিছু’। এলোমেলো বাতাসে উড়ছে তার শাড়ির আঁচল। কোমরের কাছে আছড়ে পড়ছে ঝর্ণাধারার মতো ঢেউ খেলানো চুলগুলো। (বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে)"
'দহন' গল্পগ্রন্থটির প্রচ্ছদ- নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, প্রকাশক- পেন্সিল পাবলিকেশন্স, স্টল নং- ৩১৪
মুদ্রিত মূল্য- ২২২ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে রকমারিতেও।
